Showing posts with label Non Communicable Diseases (NCDs). Show all posts
Showing posts with label Non Communicable Diseases (NCDs). Show all posts

Thursday, October 20, 2016

জনস্বাস্থ্যকে প্রধান্য দিয়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো জরুরি

জনস্বাস্থ্যকে প্রধান্য দিয়ে
স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো জরুরি

সাম্প্রতিক সময়ে সরকার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন নতুন বিভাগ তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে,  জনগনের স্বাস্থ্য রক্ষায় সরকারের এ ধরনের পরিকল্পনা প্রশংসনীয়। তবে এ  পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আলোচনা শুধুমাত্র জনসেবক ও জনপ্রতিনিধিদের মাঝে সীমাবদ্ধ না রেখে, জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের লক্ষ্যে কার্যরত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সাথে আলোচনা করা প্রয়োজন। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে সরকারে চিকিৎসা কেন্দ্রিক, বর্তমানে মানুষের স্বাস্থ্য ও রোগের প্রকৃতি বিবেচনা করে সরকারকে জনস্বাস্থ্য বিষয়টি অগ্রাধিকার দেয়া জরুরি। আর এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের উচিত একটি জনস্বাস্থ্য বিভাগ গঠন করা।

বিগত কয়েক দশকে বাংলাদেশ সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে অনেকাংশে সফল হয়েছে, যা বিশ্বে একটি দৃষ্টান্ত। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগ (হৃদরোগ, ষ্ট্রোক, ক্যান্সার, ডায়বেটিস) বেড়ে গেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৬০% হয় অসংক্রামক রোগে। আমাদের আজকের আলোচনায় বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের রোগ আর মৃত্যু অবস্থা, সরকারী-বেসরকারী চিকিৎসা সেবার প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে আগামী বছরের বাজেট এবং স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রমকে মূল্যায়ণ করার চেষ্টা করবো।

বাড়ছে অসংক্রামক রোগ,

২০১০ সালে বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশের ৯৮.৭% এর মধ্যে অন্তত একটি অসংক্রামক রোগের (হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, ডায়বেটিস) ঝুঁকি (ৎরংশ ভধপঃড়ৎ), ৭৭.৪% এর মধ্যে অন্তত দুটি ঝুঁকি এবং ২৮.৩% এর মধ্যে অন্তত তিনটি ঝুঁকি রয়েছে। বাংলাদেশে  প্রায় ১২ লক্ষ ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগী রয়েছে। প্রতিবছর ২ লক্ষ মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় এবং ১.৫ লক্ষ মানুষ মারা যায়। জাপানিজ জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজি (জেজেসিও)-র তথ্য অনুসারে বাংলাদেশে ১ কোটি ২৭ লাখ মানুষের দেহে অস্বাভাবিক কোষের বৃদ্ধি ঘটে চলেছে, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যা নিওপ্লাসিয়া নামে পরিচিত। এ অবস্থা চলতে থাকলে ২০৩০ সাল নাগাদ ক্যান্সারের ঝুঁকিতে থাকবে ২ কোটি ১৪ লাখ মানুষ।

ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিক ফেডারেশনের ২০১৫ সালের গবেষণা অনুসারে বাংলাদেশে মোট ডায়াবেটিস আক্রান্ত  রোগীর সংখ্যা ৭১ লাখ। এর মধ্যে মোট পাঁচ শতাংশ শিশু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। বাংলাদেশে মোট ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের মধ্যে পাঁচ শতাংশ হলো টাইপ টু ডায়াবেটিস, প্রধানতই শিশুরাই এর শিকার। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের কারণে ৩,৮২০০০ মানুষ পঙ্গু হয় এবং ৫৭ হাজার মানুষ মারা যায়। বর্তমানে দেশে ২ কোটি মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত। ক্রমান্বয়ে বাড়ছে এ সংখ্যা। যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেয়া যায় মাত্র কয়েক হাজার রোগীকে। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় যে, হৃদরোগের প্রকোপ বাড়ছে। ২০০৯ সালে জাতীয় এই হাসপাতালের বহির্বিভাগে ১ লাখ ৬০ হাজার ৮ জন চিকিৎসা নেয়। ২০১৪ সালে বহির্বিভাগে রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৫৩৩ জনে।

স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক জার্নাল ল্যানচেটে বলা হয়- ২০১৩ সালে ১ লাখ ৭৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় স্ট্রোকে এবং ১ লাখ ৬ হাজার মানুষ হার্ট অ্যাটাকে ও ২৮ হাজার মানুষ উচ্চ রক্তচাপজনিত হৃদরোগে মারা যান। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরিপ থেকে জানা যায়, ১৯৯০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন রোগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মানুষের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী মানুষের মৃত্যুর প্রধান দুটি কারণের একটি হৃদরোগ।

বাংলাদেশ প্রায় সোয়া দুই কোটিরও বেশি মানুষ মানসিক রোগে আক্রান্ত। ২০১১ সালে মানসিক রোগীর সংখ্যা ছিল দেড় কোটি।  আরেকটি গবেষণার তথ্য, ১৮ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে মানসিক রোগীর সংখ্যা ১৮%। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)-র সমীক্ষায় দেখা যায় ৭-১৫ বছরের বয়সী শিশু-কিশোরদের ০৮% একাকি থাকতে পছন্দ করে, যার সংখ্যা ৩২ লাখ (দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ধরে)। শিশু-কিশোরদের এই একাকিত্ব তাদেরকে সামাজিক নানা অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দিবে, যা আমরা ইদানিং কালে অনেক বেশী দেখতে পাচ্ছি।

অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ যোগ্য, চাই প্রতিরোধের ব্যবস্থা

স্বাস্থ্য সেবাকে শুধু চিকিৎসাকেন্দ্রিক করার কারণে এবং রোগ প্রতিরোধে সম্পুর্ণ উদাসীন নীতির কারণে মরনঘাতি অ-সংক্রামক রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রতিকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সম্পুর্ণভাবে নেই কিন্তু সরকারের সার্বিক রোগ প্রতিরোধ নীতি থাকলে সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে স্বাস্থ্য সেবার আওতায় সম্ভব। আমরা জানি, দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া নগরায়ন এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস, শরীরচর্চা বা ব্যায়াম বা পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অতিরিক্ত মোটা হওয়া, অনিয়ন্ত্রিত মাদক সেবন এবং ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার, পরিবেশ দূষণ, অনিরাপদ খাদ্য অসংক্রামক রোগ সৃষ্টির অন্যতম কারণ।

খাদ্য মানুষের সুস্থ্য থাকার একটি অন্যতম প্রধান শক্তি। বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্যমতে, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৪৫ লক্ষ লোক খাদ্যে বিষস্ক্রিয়ায় আক্রান্ত   হয়ে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ২০১৪ সালে একই জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের আওতায় জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত খাদ্য নিরাপত্তা গবেষণাগারে দেখা যায় ৪০ শতাংশ খাদ্যেই মানবদেহের জন্য সহনীয় মাত্রার চেয়ে ৩ থেকে ২০ গুণ বেশি বিষাক্ত উপাদান শনাক্ত হয়। এসব খাদ্যে নিষিদ্ধ ডিডিটি থেকে শুরু করে রয়েছে কার্বামেড, কার্বাইড, অ্যালড্রিন, ক্রোমিয়াম, আর্সেনিক, সিসা, ফরমালিনসহ আরো বেশ কিছু রাসায়নিক-ধাতব মিশ্রণের উপস্থিতি । এ সকল উপাদন শরীরে ক্যান্সারসহ নানা রোগের অন্যতম কারণ।

বাজারের চিপস, ওয়েফার, চকোলেট ও জুসে কার্বোহাইড্রেড, মেলামিন অতিমাত্রায় থাকায় শিশুদের জন্য ক্ষতিকর হলেও এসব খাবারের প্রতি তাদের আকৃষ্ট করে তোলা হচ্ছে। বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ শিশুরা স্থূলতা ও উচ্চরক্ত চাপে ভুগছে, যার প্রধান কারণ শিশুদের এসব বাইরের খাবার খাওয়া। স্থূলতা ও উচ্চরক্ত চাপ ছাড়াও কিডনি, লিভার, ফুসফুসসহ নানা রোগে আক্রান্ত  হচ্ছে শিশুরা। এতে তারা প্রচন্ড স্বাস্থ্য হুমকিতে পড়ছে।

কায়িক পরিশ্রম ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য হাঁটা একটি উত্তম মাধ্যম। ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট-র গবেষণায় দেখা যায় ঢাকা শহরের ৪৪ % রাস্তায় ফুটপাত নেই এবং ৫৬% ফুটপাত হাঁটার উপযোগী নয়।  একটি সুন্দর ও পরিকল্পিত নগরের বাসিন্দাদের জন্য নগরের মোট আয়তনের ১০ শতাংশ খোলা মাঠ ও পার্ক থাকা প্রয়োজন। কিন্তু ঢাকায় এ জন্য আছে মাত্র চার শতাংশ জায়গা। । রাজধানীতে গড়ে দুই লাখ ৩০ হাজার ৭৬৯ জন মানুষের জন্য খেলার মাঠ আছে মাত্র একটি। আর অপ্রতুল হলেও এ পার্কগুলোও এখন দখল ও অব্যবস্থাপনার কারণে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

শিশু-কিশোরদের জীবনচর্চা ও রোগ সমীক্ষায় দেখা যায়, সময়মতো খাবার খায় না ৭৪ শতাংশ, পড়ার টেবিল, বইখাতা গুছিয়ে রাখে না ২২ শতাংশ, দাঁত ব্রাশ করে না ৪ শতাংশ, শরীরচর্চা বা ব্যায়াম করে না ৫৯ শতাংশ, কাপড়চোপড় নিজে পরিষ্কার করে না ৫৯ শতাংশ, মা-বাবার কাজে সহযোগিতা করে না ১৮ শতাংশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব মতে, প্রতি বছর কমপক্ষে ২৮ লাখ মানুষ অধিক ওজন এবং স্থুলতার কারণে মারা যান। গবেষণার আওতাভুক্ত ১৬ হাজার ৪৯৩ জন নারীর মধ্যে ১৮ শতাংশই অধিক ওজনের অধিকারী অথবা স্থুল। স্থুলতার কারণে তারা ডায়াবেটিস এবং অ্যান্ডমেট্রিয়াল ক্যান্সার, জরায়ু-মুখ ক্যান্সার,  স্তন ক্যান্সার, ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের মতো বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার অনেক বেশি ঝুঁকিতে থাকে বলে প্রমাণিত। গ্রামীণ এলাকার চেয়ে শহুরে এলাকায় স্থুলতা এবং অধিক ওজনের প্রাদুর্ভাব বেশি। ঢাকায় বায়ু দূষণে মরছে বছরে ১৫ হাজার মানুষ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) এক রিপোর্ট অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে দুষিত ২৫ শহরের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের তিনটি শহর নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও ঢাকা।

উপরের এ তথ্যগুলো সুপষ্টভাবেই বুঝিয়ে দেয় এমহুর্তে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রতি সরকারের মনোযোগ দেয়া প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশে যে পরিমান চিকিৎসা সেবা বরাদ্ধ ও কার্যক্রম রয়েছে, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় সে ধরনের কোন গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না।

চিকিৎসা ব্যয়ে বিপর্যস্ত মানুষ

চিকিৎসা করাতে গিয়ে বাংলাদেশে প্রতিবছর ৬.৪ মিলিয়ন বা ৪ শতাংশ মানুষ দরিদ্র হয়ে যাচ্ছে।  দেশের শতকরা ৭৫ শতাংশ কিডনি রোগী ব্যয়বহুল কিডনী রোগের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে সমর্থ হন না। বাংলাদেশ ১২ লক্ষ ক্যান্সার রোগী থাকলেও, সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা পায় মাত্র ১ লক্ষ লোক। ২০০০ সালের তথ্য অনুসারে চিকিৎসা ব্যয়ের ৬০ ভাগ মানুষের নিজের পকেট হতে যায়। স্বাস্থ্য ব্যয় মেটাতে জনগনের অন্যান্য অত্যাবশকীয় জিনিসের উপর চাপ ফেলছে।

গরীব মানুষের জন্য চিকিৎসার ব্যয়ের বোঝা বহন করা অনেক কঠিন। সামগ্রিকভাবে পরিবারের আয়ের ৮.৮ শতাংশ চিকিৎসার জন্য ব্যয় হয়। কিন্তু গরিবের বেলায় দেখা যায় এর অনুপাত প্রায় ৩৮ শতাংশ। হাসপাতালে ভর্তি, অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে অনেক দরিদ্রই হয় ঋণগ্রস্ত হয় বা জমিজমা বিক্রি করে। হাসপাতালে ভর্তি হলে দরিদ্রদের খরচ আরো বেড়ে যায়। কেননা একদিকে চিকিৎসা ব্যয় বাড়ে, আর কাজ করতে না পারায় আয় কমে যায়।

সাধারণ মানুষের চিকিৎসার আশ্রয়স্থল সরকার পরিচালিত  স্বাস্থ্য সেবা
সরকার পরিচালিত  হাসপাতালগুলোর সেবার মান ও দুনীতি নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও এ কথা অস্বীকার করার কোন অবকাশ নেই দেশের সাধারণ মানুষগুলোর আশ্রয়স্থল হচ্ছে এ সকল হাসপাতাল। স্বাস্থ্য বুলেটিন এর তথ্য অনুসারে ২০১২ সালে বর্হিভিাগে সেবা নিয়েছে ১৩ কোটি ৮২ লাখ ৮১ হাজার ১১৪ জন এবং ভর্তি হয়েছিল ৪৫ লাখ ৬৪ হাজার ৩১৮ জন রোগী। স্বাস্থ্য বুলেটিন ২০১৫ তথ্য অনুসারে ২০১৪ সালে ভর্তিকৃত ভোট রোগীর সংখ্যা ৫১ লাখ ৯৪ হাজার ৪৭০ জন। কমিউনিটি হাসপাতালে প্রতিমাসে ৯০ লক্ষ মানুষ চিকিৎসা সেবা নেয়। তবে রেফারেল ব্যবস্থা না থাকা, ডাক্তারের অনুপস্থিতি, ঔষধের অভাব, নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি নষ্ট, অপরিচ্ছন্নতা, হাসপাতালে কর্মীদের দূব্যবহারের কারণে সরকারী চিকিৎসার ব্যবস্থা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠে থাকে। এছাড়া মহানগর এবং বিভাগীয় পর্যায়ে সরকার পরিচালিত চিকিৎসা কেন্দ্র গড়ে তোলা ও বরাদ্ধ বৃদ্ধির কারণে মানুষের স্বাস্থ্য সেবা ব্যহত হচ্ছে। শুধুমাত্র ঢাকা বিভাগে রয়েছে ৪৮টি সেকেন্ডারী ও টারশেয়ারী হাসপাতাল।  আর এ অবস্থার প্রেক্ষিতে দেশের সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্য সেবা হতে বঞ্চিত হচ্ছে।

বেড়ে যাচ্ছে বাণিজ্যিক বেসরকারী চিকিৎসা ব্যবস্থা
১৯৮২ সালে একটা অধ্যাদেশ জারীর মাধ্যমে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতকে আইনী বৈধতা দেওয়া হয়।  ১৯৮০ সালে সরকারী পরিচালনায় রাষ্ট্রায়াত হাসপাতাল ছিল ৫১০ টি এবং বেসরকারী ছিল ৩৯ টি, ১৯৯৮ সালে সরকারী হাসপাতালের সংখ্যা বেড়ে ৬৪৭ টি এবং বেসরকারী হাসপাতালের সংখ্যা দাড়ায় ৬২৬টি। ২০০৫-০৬ সালে এক তথ্যে দেখা যায মোট ৪ হাজার ১৫টি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের মাঝে ২ হাজার ১৬৮টি একক মালিকানায়  প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে  বাংলাদেশে ১৩৩৪১ টি প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিস ও ডায়গোনেসটিক সেন্টার আছে। সঠিক পরিসংখ্যান নেই।  স্বাস্থ্যখাত একটি বিশাল বানিজ্যিক খাত। ২০০৯ সালে প্রকাশিত এক তথ্যে দেখা যায় ৮ বছরে বেসরকারী চিকিৎসালয়ের আয় বেড়েছে ৫৩৬ শতাংশ, দিন দিন এর পরিমান বাড়ছে।

বেসরকারী চিকিৎসার উন্নয়নের লক্ষ্যে  ‘‘বেসরকারি চিকিৎসা সেবা আইন ২০০০’’ খসড়া প্রণয়ন করা হয়। আইনটি ২০০৩ ও ২০০৪ সালে আরো অধিকতর উন্নয়ন করে। ২০১০ সালে  “বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবা আইন-২০১০’’ (খসড়া) নিয়ে আবার কিছুটা কাজ হয়। বর্তমানে  ‘‘বেসরকারী চিকিৎসা সেবা আইন-২০১৬’’ এর খসড়ার উপর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে। বিগত ১৬ বছরে আইনটি আলোর মূখ দেখেছি, আর এ পিছনে স্বাস্থ্য বানিজ্যের সাথে জড়িত ব্যক্তিরা রয়েছে। বর্তমানেও শুধুমাত্র চিকিৎসকদের প্রত্যক্ষ প্রভাবে আইনটি পর্যালোচনা কাজ চলছে। এ ক্ষেত্রে জনস্বার্থ কতটুকু রক্ষা পাবে বা একটি বড় প্রশ্ন।

ঔষধ বানিজ্য
স্বাস্থ্যখাতে অপর এক অনিয়ন্ত্রিত অবস্থার নাম ঔষধ বানিজ্য। ঔষধ বানিজ্যের চিত্র পাওয়া যায়, ডাঃ মুনির উদ্দিন আহমদ এর লেখায় ‘‘১৯৮১ সালে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায়  জাতিসংঘের শিল্প উন্নয়ন সংস্থা বাজারজাতকৃত ২ লাখ ওষুধ থেকে মাত্র ২৬টি ওষুধের একটি তালিকা প্রকাশ করে যেগুলোকে অপরিহার্য বলে বিবেচনা করা হয়।

অধ্যাপক মোঃ সায়েদুর রহমান, ফার্মাকোলজি বিভাগ, বিএসএমএমইউ-র মতে মানুষের চিকিৎসার জন্য খরচ করার ৩ টাকার মধ্যে ২ টাকা ব্যয় করে ঔষধে। বাংলাদেশে ঔষধের বাজার প্রায় ১৬০০০ কোটি টাকার। সরকার ঔষধের জন্য ব্যয় করে ৬৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ ১৫৩৫০ কোটি টাকার ঔষধ মানুষকে কিনতে হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রায় ১১০০ জেনরিক ঔষধের ২৪০০০ হাজার ব্রান্ড নাম রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংখ্যার মতে যে ঔষধ ব্যবহার হয় তার ৫০% প্রেসক্রিপশন বা ডিসপেন্সিং বা বিক্রি পর্যায়ে অযৌক্তিক/ভুল/ অসম্পূণ হয়ে থাকে। দেশে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার ঔষধ নিম্ন মানের। সরকার যদি মাত্র ৩০০০ কোটি টাকা ব্যয় করে, তবে সরকার পরিচালিত হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণকারী ব্যক্তিদের আর বাইরে হতে ঔষধ কিনতে হবে না।

জনস্বাস্থ্য ও বাজেট
বাংলাদেশের বর্তমান রোগ ও মৃত্যু পরিমাণ, কারণ এবং প্রকৃতি, চিকিৎসা ব্যয় ইত্যাদি বিশ্লেষণ করলে কতিপয় বিষয় সুপষ্ট হয়।
প্রথমত: বাংলাদেশে প্রতিরোধযোগ্য রোগ ও মৃত্যুর বাড়ছে, দ্বিতীয়ত: চিকিৎসা ব্যয়ের কারণ মানুষ সর্বশান্ত হচ্ছে। এর জন্য প্রয়োজন রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থাকে প্রধান্য দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম গড়ে তোলা। এর পক্ষে বেশ কিছু আইন ও নীতিমালা রয়েছে যা প্রয়োগ করলে অ-সংক্রামক রোগ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।

বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে আইন ও নীতিমালা পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক প্রকাশনা অনুসারে নিরাপদ খাদ্য, পরিবেশ সংরক্ষন, মাদক নিয়ন্ত্রণ, তামাক নিয়ন্ত্রণ, কায়িক পরিশ্রম নিশ্চিতের লক্ষ্যে বাংলাদেশে প্রায় ৯টি নীতিমালা এবং ১৭ টি আইন রয়েছে। কিন্ত এ সকল আইন প্রয়োগে  যথেষ্ট গুরুত্ব না পাওয়ায় জনস্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩, পরিবেশ সংরক্ষন আইন ১৯৯৫, পরিবেশ আদালত আইন ২০১০, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯, খেলার মাঠ, উম্মুক্ত স্থান, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষন আইন ২০০০, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫ এর মতো জনস্বাস্থ্যের সাথে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ আইনগুলোর বাস্তবায়নে যথেষ্ট ধীর এবং আশানুরূপ নয়। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় জড়িত রয়েছে এ সকল আইন বাস্তবায়নে সাথে। সকলের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করলে বিদ্যমান ব্যবস্থাপনা ও অর্থের মাধ্যমে অনেক সাশ্রয়ীভাবে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করা সম্ভব।

বিদ্যমান স্বাস্থ্যসেবার সমস্যা :  বাজেটে অর্থবৃদ্ধি কি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবে না চাই সঠিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা
রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে প্রধান্য না দেয়া, স্বাস্থ্যখাতের দুনীতি ও অপব্যয়, নিয়ন্ত্রণহীন বেসরকারী চিকিৎসা ও ঔষধ বানিজ্য এ সকল বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ না করে প্রতিবছর বরাদ্ধ বাড়ালেই জনগণের স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধি হবে না। স্বাস্থ্য সেবার কোন খাতে বরাদ্দ প্রয়োজন তার কোন মূল্যায়ন না করে এবং প্রয়োজনের প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে ‘ প্রতিবারের মতোই এবারও টাকার অংক বাড়িয়ে অবকাঠামো ও চিকিৎসার নির্ভর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তবে তামাকজাত দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, ক্যান্সার, কিডনী, লিভার সিলোসিস, স্ট্রোক, জন্মগত হার্ট ডিজিজ রোগীদের জন্য বরাদ্ধ বৃদ্ধি প্রশংসার দাবিদার। তবে মাতৃত্বকালীন ভাতা, প্রতিবন্ধীদের ভাতা, দেয়ার কাজ স্বাস্থ্য বাজেটের অংশ নয়, এটা সমাজকল্যানের কাজ।

বিগত বছরগুলোতে বাজেটে টাকার অংকে বরাদ্ধ বেড়েছে, আর স্বাস্থ্য অধিকার কর্মী হিসেবে আমরা হিসেবে করেছি অনুপাত। কিন্তু বড় হওয়া টাকার অংক এখনো একটি ক্ষেত্রে ও  মানসম্মত স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে পারেনি। অবকাঠামো, পরীক্ষা নিরীক্ষার মেশিন, ঔষধ ক্রয়ের মতো খাতগুলোতে অবিরাম দুনীতি আর অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রচুর টাকা প্রতিবছর যাচ্ছে কিছু মানুষের পকেটে। বরাদ্ধ যত বাড়ছে বাড়ছে দুনীতি, অপব্যয়ও তাল দিয়ে বাড়ছে।। আর তাই বরাদ্ধকৃত টাকা সঠিক ব্যবস্থাপনার প্রতি নজর দেয়া জরুরি। যে পরিমান বরাদ্ধ বিগত ৫ বছরে হয়েছে সে  সকল খাতের সঠিক ব্যবহার হয়েছে কিনা তা নিরীক্ষা, আগামী দিনের উপকরণ ক্রয় বা অবকাঠামো নির্মাণের খাতের ব্যয়ের প্রয়োজনীয়াত কঠোরভাবে নিরীক্ষা করা জরুরি।

স্বাস্থ্য আন্দোলন জনগণের স্বাস্থ্য সবার মান বাড়ানো এবং যারা স্বাস্থ্য সেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়ে আছেন সেসব এলাকা ও মানুষের জন্যে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবী করছে।  স্বাস্থ্য বাজেটের ক্ষেত্রে সরকারের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে প্রধান্য দেয়ার পাশাপাশি দেশের প্রতিটি এলাকার চাহিদা নিরুপন এবং বরাদ্ধ ব্যবস্থা চালু, সরকারের রেফারেল ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, ওষুধ উৎপাদন, মূল্য, ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানো; উপকরণ ক্রয় বা অবকাঠামো নির্মাণের খাতের ব্যয়ে মনিটরিংসহ মতো খাতগুলো ব্যবস্থাপনার লক্ষে বরাদ্ধ ও মনোযোগী হওয়া জরুরি।

Thursday, March 31, 2016

ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্কবাণী আশা ও উৎকন্ঠা

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিধিমালা অনুসারে আগামী ১৯ মার্চ ২০১৬ হতে সকল তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটে/মোড়কে ছবিসহ সতর্কবাণী আসার কথা। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সরকারের এ সিদ্ধান্ত তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মীদের মাঝে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছিল। তবে তামাক কোম্পানিগুলো সতর্কবাণী প্রচলনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক বিভিন্ন কার্যকলাপের প্রেক্ষিতে তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মীদের মধ্যে উৎকন্ঠা তৈরি হয়েছে।

২০১৩ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের মাধ্যমে তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রদানের বিধান যুক্ত করা হয়। ২০১৫ সালের আইনের বিধিমালা অনুসারে আগামী ১৯ মার্চ ২০১৬ হতে বাংলাদেশের সকল তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্কবাণী দিতে হবে। আইন পাশের প্রায় ৩ বছর পর এ ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্কবাণী বিধান আসার পিছনে তামাক কোম্পানিগুলোর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে। আর এ অবস্থায় তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মীদের উৎকন্ঠা যথেষ্ট যৌক্তিক।

তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রদানকে বিশ্বব্যাপী তামাক নিয়ন্ত্রণে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়। তামাকের মোড়কে ছবিসহ সতর্কবাণী প্রদানকে কেন জোর দিয়ে থাকে, এ বিষয়টি একটু ব্যাখা জরুরি। গবেষণায় দেখা যায়, একজন ধূমপায়ী বছরের প্রায় ৭০০০ বার সিগারেটের প্যাকেটে দেখেন। ছবিসহ সতর্কবাণী থাকলে একজন নিরক্ষর মানুষও সহজে ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে বুঝতে পারবেন। এ ব্যবস্থা ধূমপায়ীদের ধূমপান ত্যাগে উৎসাহী করে এবং কিশোর তরুণদের ধূমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত করে।

আন্তর্জাতিকভাবে ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্কবাণীর বিষয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। ব্রাজিলের এক গবেষণায় দেখা যায়, সিগারেটের মোড়কে ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্কবাণী এক তৃতীয়াংশ ধূমপায়ীকে ধূমপান ত্যাগে উদ্ধুদ্ধ করেছে। সিঙ্গাপুরে ৭১% ধূমপায়ী বলেছেন, ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রদান করায় ধূমপানের ভয়াবহ ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছে। বাংলাদেশ এক গবেষণায় দেখা যায়, প্রায় ৯৫.৪% মানুষকে ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রভাবিত করবে।
বিশে^র প্রায় ৮০টি দেশে ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রদান করা হয়েছে। এ সকল দেশের মাঝে প্রায় ৬০টি দেশে ৫০%  জুড়ে ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রদানের বিধান রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মাঝে নেপাল ৯০% জুড়ে ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রদান করেছে। ২০১২ অষ্ট্রেলিয়া বিশে^ প্রথম প্লেইন প্যাকেজিং ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এ ব্যবস্থায় তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে কোম্পানি ব্র্যান্ড ছবি, লেগো, ট্রেডমার্ক কোন কিছুই প্রদান করা যায় না। প্যাকেটে একটি নির্দিষ্ট রং থাকে এবং কোম্পানি নির্ধারিত স্থানে এবং ফন্টে শুধুমাত্র ব্র্যান্ড নাম লিখতে পারে।

বাংলাদেশে প্রথম স্বাস্থ্য সতর্কবাণীর আইনীভাবে নিশ্চিত করা হয় ১৯৮৮ সালে, তামাকজাত সামগ্রী  বিপণন (নিয়ন্ত্রণ) আইনের মাধ্যমে। ১৯৮৮-২০০৬ পর্যন্ত ‘‘ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর”Ñ ছোট অক্ষরে লিখিত এ সতর্কবাণীই বিদ্যমান ছিল। ২০০৬ সাল হতে নতুন স্বাস্থ্য সতর্কবাণী নিশ্চিত করা হয় ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫ অনুসারে। ২০১৩ সালে ২০০৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক তামাক নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি-র) আলোকে ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্কবাণীর বিধান যুক্ত করা হয়।

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুসারে তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেট/মোড়কের মুলপ্রদর্শনী তলের ৫০% জুড়ে ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রদান করতে হবে। প্যাকেটে শুধুমাত্র বাংলাদেশে বিক্রয়ের জন্য অনুমোদিত লিখতে হবে। জনস্বাস্থ্যের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ও ঝুঁকি সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা তৈরির উদ্দেশ্যে, তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেট, কার্টন, কৌটা বা মোড়কে ব্র্যান্ড এলিমেন্ট (যেমন- লাইট, মাইল্ড, লো-টার, এক্সট্রা, আল্ট্রা শব্দ) ব্যবহার করা যাবে না। এছাড়া প্রতি তিন মাস পর পর পরিবর্তিত সতর্কবাণী মুদ্রণ করতে হবে। সরকার ২ বছর পর নতুন সতর্কবাণী প্রদান করতে পারবে।

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে পরিচিত অন্যতম আইন। এ আইন সম্পর্কে বিষয়ে জনসাধারণের মধ্যে আগ্রহ, সচেতনতা, সম্পৃক্ততা ও প্রত্যাশা অনেক বেশি। কারণ, এ আইন প্রণয়নে আইনী দিকের পাশাপাশি দেশীয় সংস্কৃতি, মানুষের অভ্যাস, অবকাঠামো, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা, ধূর্ত তামাক কোম্পানির কার্যকলাপ ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার সমন্বয় করা হয়েছে। সরকার সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি তামাক নিয়ন্ত্রণে দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে অভিজ্ঞ স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও ব্যক্তিকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। আইন বাস্তবায়ন ও প্রয়োগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মতামত গ্রহণ করেছে। প্রতিটি ধারার ক্ষেত্রে কমিটির সদস্যরা ঘন্টার পর ঘন্টা বিশ্লেষণ আর যুক্তিতর্কে মিলিত হয়েছেন। আইনটির বিষয়ে আন্তমন্ত্রণালয় সভা এবং বেসরকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনায় প্রত্যেকেই আইনটি আরো কঠিন করার মতো জোরালো অভিমত ব্যক্ত করেছিলেন। তবে আইন প্রণয়নের সাথে সংশ্লিষ্টরা বাস্তবতার আলোকে সুপারিশ প্রণয়ন করেন। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের অর্জন অনেক, তবে মানুষের প্রত্যাশা এখনো পুরন করতে পারেনি।

আইনটি প্রণয়ন ও সংশোধনের ক্ষেত্রে জনমত সংগ্রহসহ প্রচলিত সকল প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। তারপরও এ আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে বিরোধীতাসহ নানারকম ষড়যন্ত্র করেছে তামাক কোম্পানি। ২০০০ সাল হতে ২০১৫ পর্যন্ত আইন প্রণয়ন এবং সংশোধন গঠিত কমিটির সদস্য হয়ে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। বিগত সময়ে আইন প্রণয়ন ও সংশোধন কমিটিতে কাজের অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি, প্রতিবারই তামাক কোম্পানি প্রবলভাবে শুধুমাত্র প্যাকেটে স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রদানের ক্ষেত্রে কঠোরভাবে বিরোধীতা করেছে।

২০০৫ সালের আইন ও বিধিমালা প্রণয়নে তামাক কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিরা সম্পৃক্ত থাকলেও, ২০১৩ সালে এফসিটিসি অনুসারে তামাক কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা হয়নি। তবে কোম্পানিগুলো সহযোগি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং চিঠি পত্রের মাধ্যমে তাদের বিরোধী বক্তব্য তুলে ধরে যা গণমাধ্যমেও প্রকাশ পেয়েছে। তবে সকল ক্ষেত্রেই তাদের বক্তব্য প্রায় একই থাকে। যেমন প্যাকেটে এ ধরনের ছবি ছাপাতে তাদের মেশিন নেই, তারা ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, এত স্বল্প সময়ে তারা ছাপাতে পারবে না। আর এ যুক্তিতেই তারা নানাভাবে সময়ক্ষেপন করেছে।

অধিকাংশ মানুষ তামাক কোম্পানিগুলোর বিরোধী থাকলেও, কিছু স্বার্থান্বেষী ও তামাক কোম্পানির কাছ থেকে সুবিধাভোগী ব্যক্তিকে তাদের পক্ষে কথা বলতে শোনা যায়।  কিন্তু একটি কথা পরিষ্কারভাবে করা প্রয়োজন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের উদ্যোগ তামাকজনিত মৃত্যু কমিয়ে আনাসহ কোম্পানিগুলোর বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ। সুতরাং আইনের প্রেক্ষিতে তামাক কোম্পানির বানিজ্য যত কমে আসবে জনগনের স্বাস্থ্য তত ভাল হবে। তামাকজনিত রোগ, মৃত্যু তত কমে আসবে। আর এ ক্ষেত্রে কঠোর হওয়ার কোন বিকল্প নেই।

বিধিমালা প্রণয়নের পর প্রায় এক বছরের সময় দেয়া হয়, সাম্প্রতিক সময়ে তামাক কোম্পানিগুলো মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রদানের ক্ষেত্রে আবার টালবাহানা করছে। এখন তারা বলছে প্যাকেটের উপরের অংশে তারা সতর্কবাণী দিতে পারবে না, নিচে দিতে চায়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায় এ বিষয়ে তারা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে, মন্ত্রীর সাথে দেখাও  করেছে। তবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটের উপরি অংশে সতর্কবাণী প্রদানের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। গত জানুয়ারি মাসে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর সাথে তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মীদের একটি প্রতিনিধিদল স্বাক্ষাৎ করলে তিনি আইন অনুসারে স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রদানের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। গত জানুয়ারি মাসে সার্ক স্পিকার সামিটে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় আগামী ১৯ মার্চ ২০১৬ হতে বাংলাদেশ ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রদানের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী অঙ্গীকার এবং আইন ও বিধিমালার বিধান থাকার পরও তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মীরা উৎকন্ঠা থেকে নির্দিষ্ট সময়ে ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্কবাণী নিশ্চিতের লক্ষ্যে ঘরে বাইরে ধারাবাহিত বিভিন্ন কার্যক্রম করে আসছে। তামাক কোম্পানিগুলো হীন ও কুটকৌশল এই উৎকন্ঠার মূল বিষয়। অপরদিকে এ কথাও সত্য, কিছু ব্যক্তি জনগনের স্বাস্থ্যের কথাটা বিবেচনা না করে, তামাক কোম্পানির ক্ষতি হচ্ছেÑএই মনোভাব পোষন করেন। তামাক কোম্পানির কাছ থেকে সুবিধাভোগীরা ভুলে যান তামাকজনিত রোগে দেশে প্রতিবছর ৫৭,০০০ মানুষ মারা যায় আর ৩৮২০০০ মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেন। আর এ ধরনের তামাক কোম্পানির প্রতি সহানুভুতিমূলক মনোভাবের কারণে কোম্পানিগুলো আইনকে পাশ কাটিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সাহস পায়। ধূর্ত তামাক কোম্পানির ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে আগামী ১৯ মার্চ ২০১৬ বাংলাদেশে সকল তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্কবাণী আসবে এই প্রত্যাশা।

সমকাল: http://bangla.samakal.net/2016/03/17/200001

Monday, February 22, 2016

বৈষম্যহীন কল্যাণকর রাষ্ট্র আমার বাংলাদেশ

বৈষম্যহীন কল্যাণকর রাষ্ট্র আমার বাংলাদেশ
এডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম, আইনজীবী ও নীতি বিশ্লেষক

ছোট ছোট পায়ে পথ ধরে স্কুলে যাওয়া, সুস্বাস্থ্য আর জ্ঞান মেধায় বেড়ে উঠা পিছনে রয়েছে এই রাষ্ট্রের  লক্ষ কোটি সাধারণ মানুষের কষ্টের টাকায় গড়ে উঠা প্রতিষ্ঠান আর অবকাঠামো। অপেক্ষকৃত অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে আমরা অনেকেই প্রশ্ন করি, দেশ আমাকে কি দিয়েছে? অথচ প্রশ্নটা করা উচিত আমরা দেশকে কি দিয়েছি? দেশের মানুষের জন্য কতটুকু করেছি সেই প্রশ্নটাও একবার নিজেকে করা উচিত।

দেশ অনেক এগিয়েছে, দেশ এগিয়ে যাবে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্য, অর্থনীতিসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক সুচকে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্ত এ সকল অর্জনে সুবিধা কত শতাংশ মানুষ ভোগ করছে, তা বিশ্লেষণ ও নির্ধারণ করে আগামী দিনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। যদি সম্পদের বন্টনের বৈষম্য অব্যাহত থাকে, তবে এ রাষ্ট্রের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে।  সুচকে আমাদের উন্নয়ন হলেও সম্পদের বন্টনের ক্ষেত্রে আমাদের সুবিধাভোগীদের মানসিক দারিদ্রতা এখনো রয়ে গেছে।

নগরগুলোতে একটি বড় অংশের মানুষ বস্তিতে থাকে। নদীভাঙ্গন বা অর্থনৈতিক সুবিধার লক্ষ্যে এই নগরে আসে। চরম দরিদ্রতার সাথে রয়েছে পানি, আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সমস্যা। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রের অর্থে কম দামে জমি কিনে ক্ষমতাবান প্লট তৈরি করে দিয়েছে। এ নগরে ক্ষমতাবানদের জন্য একের পর এক আবাসন প্রকল্প তৈরি হলেও,  দরিদ্র বস্তি বাসীদের জন্য কোন  কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। আবাসনের এই বৈষম্য অবসান করা জরুরি।

এই নগরে লক্ষ লক্ষ শিশু রয়েছে। কিন্ত এ শিশুদের খেলাধুলা ও বিনোদনের জন্য নেই পর্যাপ্ত জায়গা। ফুটপাতে প্রায় ২ লক্ষের বেশি স্থায়ী হকার রয়েছে,  যাদের উপর ১৪ লক্ষ মানুষের জীবন নির্ভর করে।  ফুটপাতের হকার উচ্ছেদ হয়। কিন্ত ফুটপাতে গাড়ী পার্কিং করে রাখতে পারে নির্বিকার ভাবে। দুই লক্ষ প্রাইভেট গাড়ীর জন্য আইন করে ঢাকার প্রতিটি বাড়ীতে, মাকের্টে পার্কিং ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই নগরে শিশু আর হকারদের জন্য নেই পরিকল্পনা আর উদ্যোগ।

বাজেট এদেশের অর্থনৈতিক আইনী দলিল। দেশের লক্ষ কোটি সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ভ্যাট, ট্যাক্স দিয়ে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে। অপর দিকে কিছু মানুষ ভ্যাট, ট্যাক্স না দিয়ে জমিয়ে নেয় অর্থ। প্রতিবছর বাজেটে কালো টাকাকে বৈধ করার সুযোগ দেয়া হয়, যা বাংলাদেশ সংবিধান পরিপন্থী। বাংলাদেশ সংবিধানের ২০(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে,‘‘ রাষ্ট্র এমন অবস্থা সৃষ্টির চেষ্টা করিবেন, যেখানে সাধারণ নীতি হিসাবে কোন ব্যক্তি অনুপার্জিত আয় ভোগ করিতে সমর্থ হইবেন না’’। এক শ্রেণীর মানুষের কালো টাকাকে সাদা করার সুযোগের মাধ্যমে বৈষম্য সৃষ্টি করা হচ্ছে।এ অবস্থার অবসান হওয়া জরুরি।

বিদুৎ উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত। বাংলাদেশ সংবিধানের ১৬ অনুচ্ছেদে নগর ও গ্রামের বৈষম্য দূরীকরণ, কৃষি ও শিল্প বিপ্লবের লক্ষ্যে বিদুৎতায়নের কথা বলা হয়েছে। এ দেশের নগর দোকান, বিলবোর্ড, রাস্তায় আলোক সজ্জায় যখন ভরপুর থাকে বা প্রচন্ড শীতল এসিতে যখন নগরে মানুষ আরামে ব্যস্ত। তখন অনেক গ্রামেই কৃষির জন্য নূন্যতম বিদুৎ সরবারহ করা যায় না।

বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে, সংক্রামক রোগ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু মানুষের মাঝে বৃদ্ধি পাচ্ছে অসংক্রামক রোগ। হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত মোটা হওয়ার মতো অসংক্রামক রোগগুলোর বৃদ্ধি দেশের জনস্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। কায়িক পরিশ্রম, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস তামাক ব্যবহারের কারণে এই অসংক্রামক রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ সকল রোগের রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তি পর্যায়ের চিকিৎসা ব্যয় অনেক। কিন্তু ব্যবসায়িক স্বার্থকে প্রাধন্য দিতে গিয়ে ক্ষতিকর পণ্যগুলো নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে অনেক শিথিলতা দেখা যায়।

সম্প্রতি দীর্ঘ ২ বছর পর তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের বিধিমালা পাশ করা হল, যাতে তামাক কোম্পানিগুলোকে তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে ছবিসহ সতর্কবাণী প্রদানে ১২ মাসের সুযোগ দেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও জনস্বাস্থ্যকে প্রাধান্য না দিয়ে তামাক কোম্পানির স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও জনস্বাস্থ্যকে প্রাধান্য দেয়া হয় না।

সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত উন্নয়নের পূর্বশর্ত।  ঢাকা শহরের অধিকাংশ প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ হেঁটে, রিকশায়, বাস, সাইকেলে চলাচল করে। রিকশায় চলাচল করে একটি বড় অংশের জনগোষ্ঠী। যানজটের অজুহাতে এ নগরের অনেক রাস্তা হতে রিকশা বন্ধ করা হয়েছে, অথচ গুটি কয়েক মানুষের বাহন প্রাইভেট গাড়ী যে কোন রাস্তায় চলতে পারে। বর্তমানে ঢাকার অধিকাংশ রাস্তায় প্রাইভেট গাড়ীর কারণে যানজট হয়। কিন্ত নগরে প্রাইভেট গাড়ী নিয়ন্ত্রণে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় না।এ নগরে প্রাইভট গাড়ী নিয়ন্ত্রণ করে পাবলিক বাস বৃদ্ধির মাধ্যমে বৈষম্য নিরসন জরুরি।

এ দেশ এগিয়েছে, এ দেশ এগিয়ে যাবে। দেশের অর্থনীতি আরো শক্তিশালী হবে। আমরা স্বপ্ন দেখি দেশের পরিবেশ দূষণ কমে আসবে, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা প্রাধান্য পাবে, দেশের মানুষের কর্মমুখী শিক্ষার জ্ঞান বৃদ্ধি পাবে। আমরা সুখী কল্যাণকর রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করবো। দেশের স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও পরিবেশ উন্নয়ন হবে বৈষম্যহীন।

ছবি: ইন্টারনেট

Saturday, October 3, 2015

Review of Legislations and Policies to Control Non Communicable Diseases in Bangladesh

Summary

Non-communicable Diseases like diabetes, Chronic Obstructive Pulmonary Disease (COPD), heart disease, stroke, cancer are increasing day by day. Although these diseases don't cause immediate death, it is the cause of physical, emotional and economic suffering for a long time. Non-communicable Diseases (NCD) is the leading cause of preventable death. In South Asia, NCD is the leading cause of the death. Rapid increase in urbanization and population growth, as well as unhealthy lifestyle, unhealthy food consumption habits, lack of adequate physical exercise, excess fat, unregulated drugs, smoking and consumption of tobacco products, environmental pollution are the leading cause of NCD. These are called the risk factors of NCD.

The study conducted nationally in 2010 shows 98.7% of at least one of NCD Risk 77.4% and 283% of the risk in at least two of the three risks. The study also shows 17.9% are affected by the hypertension (high blood pressure). Still the use of tobacco is high (51%). According to World Health Organization 60 % of death is caused by non communicable disease.

Only through awareness and medical treatment, NCD cannot be controlled. Non-communicable diseases immune system needs to be emphasized to control it. From Ministry of Health or the health service providers' aspects only it's not possible to deal with the disease. Non-communicable diseases are also associated with the people's lifestyle and eating habits, insufficient exercise, consumption of alcohol and tobacco, and environmental pollution. Therefore, the Ministry of Health and Family Welfare along with the Ministry of Food, Urban Infrastructure, Environment, Education, Commerce, Interior, and Agriculture also have direct relation and vital role in controlling the diseases.

The laws and policies have been reviewed in order to strengthen the involvement and participation of the associated Ministries of Non-Communicable Disease. The laws and policies related to the food, environment, health, and infrastructure mostly dominate in this analysis. The World Health Organization has reviewed several directions for detail policy analysis and determination of scope for controlling Non-Communicable Disease.

Under this analysis, 8 policies and 21 Acts are analyzed. At the end of each policy, a brief analysis of the laws and regulations in relation with the Non-Communicable Diseases has been highlighted. The positive aspects of law and policy analysis: analysis of the laws and policies of each direct or indirect role in the control of Non-Communicable Diseases. Some laws and policies need to be amended.

Thus, the amendment of policies and legislations of Non-Communicable Disease Control is time consuming matter. The high level committee was formed which comprises of the representatives from the Ministry of Health and Planning for the high performance in the laws and policy to control Non-Communicable Disease. Click for more details