Showing posts with label অধিকার. Show all posts
Showing posts with label অধিকার. Show all posts

Monday, September 26, 2016

সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় মালিকের সুবিধা বাড়ায় মালিক বাড়ায় নাগরিক নির্যাতন

সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় মালিকের সুবিধা বাড়ায়
মালিক বাড়ায় নাগরিক নির্যাতন, #পরিবহন_ভাড়ায়_দুর্বৃত্তায়ন_বন্ধ_হোক
এখন সিএনজিতে উঠতে গেলে মিটার হতে অতিরিক্ত ২০ টাকা দাবি করে, অথবা কন্ট্রাকে যেতে বলে, অন্যথায় যাবে না। সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় যথার্থ দায়িত্বের সাথে পরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি করেও, মালিকরা যখন নাগরিক হতে অতিরিক্ত ভাড়া নেয় তখন যথার্থ দায়িত্ব পালণ করে না/ করতে পারে না। সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নাগরিক অধিকার রক্ষায় উদাসীন আচরণ জনগনকে ক্ষুদ্ধ করে তোলে।
বেশ কয়েক মাস আগে সিএনজির মালিকদের জমা ও মিটারে ভাড়া বৃদ্ধি করে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়। কিন্তু মাত্র অল্প কয়েকদিন চলার পরই সিএনজি চালকরা মিটার হতে ২০ টাকা বেশী ভাড়া দাবী করে। বিআরটিএ দিন কয়েক রাস্তয় মোবাইল কোর্ট চালাল তার আর কোন খবর নেই। শহরের লক্ষ লক্ষ মানুষ আজ প্রতিদিন সিএনজি মালিক আর চালকদের নিয়মের কাছে জিম্মি।
আজ কদিন সিএনজি চালকরা মিটার হতে ৩০ টাকা বেশি দাবি করছে। রাষ্ট্রের আইনের পরও সিএনজি মালিক আর চালকরা নিজেদের আইন প্রয়োগ করে। আর ক্ষেত্রে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণলায় ও তার অধীন সংস্থাগুলো কিছু রুটিন কাজ করে তৃপ্তির ঢেকুর তুলে।
সিএনজির এই অনিয়মের বিরুদ্ধে বিআরটিএতে অভিযোগ করতে হবে। তারপর তারা শুনানিতে ঢাকবে, তারপর প্রতিকার। কোন সাধারন নাগরিকের পক্ষে এ নগরে এভাবে সময় দেয়ার ক্ষমতা আছে? প্রতিদিন যে পরিমান সিএনজিকে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হয়, এ পরিমান অভিযোগ জমা দিলে কোন নাগরিককে আর অন্য কোন কাজ করতে হবে না।
জনগনের নির্যাতন বন্ধে, মাটিতে নেমে আসুন
রাষ্ট্রের আইনের পর আইন বানিয়ে মালিক আর সিএনজি চালকদের নির্যাতন বন্ধে সড়ক পরিবহন ও বিআরটিএর কর্মকর্তাদের রাস্তায় নামতে হবে। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রাস্তায় সিএনজি থামিয়ে নাগরিককে জানতে চান চালক অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছি কিনা? ট্রাফিক পুলিকদের এ কাজে জোরালোভাবে সম্পৃক্ত করুন। রাষ্ট্র প্রজাতন্ত্রণের সেবকদের বেতন ও নানা সুবিধা বাড়িয়েছে, এখন নাগরিকে শান্তি দিন।
প্রস্তাবনা
১) চালকদের অপেক্ষা মালিকদের বেশি করে জরিমানা করার পদক্ষেপ গ্রহণ;
২) সড়ক পরিবহন ও বিআরটিএর কর্মকর্তাদের মনিটরিংএ নিয়মিত রাস্তায় থাকা নিশ্চিত করা;
৩) মোবাইল কোর্টে সবসময় একই জায়গায় না বসিয়ে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় বসানো;
৪) ট্রাফিক পুলিশদের সিএনজি মিটারের ভাড়ায় চলাচল নিশ্চিতে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণের দায়িত্ব প্রদান;
৫) প্রয়োজনে সিএনজির লাইসেন্স বাতিলে পদক্ষেপ গ্রহণ;
#পরিবহন_ভাড়ায়_দুর্বৃত্তায়ন_বন্ধ_হোক

Thursday, March 31, 2016

দাবি মানেই বিরোধীতা নয়, প্রত্যাশা ভাবুন...

সরকারের বিভাগগুলো জনবান্ধব ও দায়িত্বশীল হাওয়া জরুরি।
দাবি মানেই বিরোধীতা নয়, প্রত্যাশা ভাবুন...
প্রথমটা ছবিটা ৩০ মার্চ-র (শাহবাগে নার্সদের আন্দোলনে পুলিশ লাঠিপেটা, আহত ৩০) এবং দ্বিতীয়টা ৩১ মার্চ-র (তনুর জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরমুখী যাত্রায় বাধা, ধস্তাধস্তিতে আহত ৪)। এ ধরনের ঘটনা শুধু আহত ও অনাকাঙ্গিত ঘটনার জন্ম দেয় না। সরকারের ভাবমুতিকে ক্ষুন্ন করে। জনগন ও সরকারের মাঝে দুরত্ব সৃষ্টি করে। আইনশৃঙ্খলার অবনতি করে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এ অবস্থা যাতে সৃষ্টি না হয়, সে জন্য সরকারে বিভাগগুলো জনবান্ধব ও দায়িত্বশীল হাওয়া জরুরি।
জনতা অধিকার আদায়ে বা অধিকারের কথা সরকারের জানাতে নিরুপায় হয়েই এ ধরনের পথ বেছে নেয়। রাস্তায় জনতার অবস্থানের সাথে সাথে পুলিশ আসে।কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিভাগের কেউ আসে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুলিশের সাথে সংঘাত হয়।
আমার প্রশ্ন পুলিশ যদি আসতে পারে তবে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতিনিধিদের আসতে সমস্যা কোথায়। নার্সদের এ আন্দোলনের খবর নিশ্চিয় সংশ্লিষ্ট বিভাগও জেনেছে। তারা তাদের একজন প্রতিনিধি পাঠিয়ে তাদের আলোচনার জন্য আহবান জানাতে পারতো। এ আন্দোলন অনেকদিনের, কেন সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো তাদের আলোচনায় বসেনি।
তনু হত্যার বিচারের দাবিতে ছাত্র যদি প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিতে যায় তবে সমস্যা কোথায় ছিল? প্রধানমন্ত্রীর উপর অনেক আস্থা আছে বলেই তারা প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিতে চায়। প্রধানমন্ত্রী দেশের নানা সমস্যা বিষয়ে যে ধরনের বক্তব্য দেন বা খোজ রাখেন। সংশ্লিষ্ট বিভাগের অধিকাংশ মন্ত্রীকেই এ ধরনের অবস্থানে দেখা যায় না।
এ ধরনের অনাকাঙ্গিত ঘটনা এড়াতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর হতে একজন কর্মকর্তা তাদের কাছ হতে স্মারকলিপি নিতে আসতে পারতেন। অথবা পুলিশ তাদের একটি প্রতিনিধি দলকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে নিয়ে যেতে পারেন। বিষয়গুলো খুবই সাধারণ কিন্ত জনবান্ধব চিন্তা না থাকায় বিষয়গুলো খুবই জটিল হয়।
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক একটি রাষ্ট্র। এ রাষ্ট্রে জনগণ তার অধিকারের কথা বলবেই। দাবির জন্য কথা বলা একটা সংবিধানিক অধিকার। অধিকার ও দাবি নিয়ে কথা বলা মানেই সরকারের বিরোধীতা নয়। সরকারের কাছে যখন দাবি করা হয়,তখন এটা উপলব্ধি করা প্রয়োজন সরকারের কাছে প্রত্যাশা হতেই এ দাবি করা হয়।
পরবতীতে এ ধরনের সামাজিক আন্দোলনে পুলিশের উচিত নিম্নোক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা। যা পুলিশের সাথে জনগনের সম্পর্ক উন্নয়ন করবে।
১) সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাথে যোগাযোগ করে, তাদের প্রতিনিধিকে আসতে বলা।
অথবা
২) আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদলকে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে নিয়ে যাওয়া।
সরকারের উচিত
১) এ ধরনের ঘটনার প্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের সাথে পূর্বে সংশ্লিষ্ট বিভাগ/বিভাগের দায়িত্বশীল ব্যক্তি তাদের সাথে আলোচনা করেছে কিনা বা তাদের সাথে যোগাযোগ করেছে কিনা তদন্ত করা।
২) সরকারের কোন বিভাগের কাছে এ ধরনের দাবি উত্থাপিত হলে, যদি সংশ্লিষ্ট বিভাগ তাদের কথা শুনার জন্য যোগাযোগ না করে, তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।

Monday, June 15, 2015

ধূমপান শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর..... ৩০ সেকেন্ড স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন....

ধূমপান শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর..... ৩০ সেকেন্ড স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন....

Thursday, July 3, 2014

খাদ্যের বিষাক্ততা: বিদ্যমান আইনসমূহ

খাদ্যের বিষাক্ততা: বিদ্যমান আইনসমূহ
সৈয়দ মাহবুবুল আলম, আইনজীবী ও নীতিবিশ্লেষক

খাদ্যে বিষাক্ত দ্রব্যের ব্যবহার বর্তমান সময়ে দেশের জনগনের মাঝে এক আতংকের বিষয়। দ্রুত লাভের স্বার্থে কিছু ব্যবসায়ীরা মাছে ও দুধে ফরমালিন, ফলমূলে কার্বাইডসহ নানান বিষাক্ত কেমিক্যাল, সবজিতে রাসায়নিক কীটনাশক, জিলাপি-চানাচুরে মবিল, বিস্কুট, আইসক্রিম, কোল্ডড্রিংস, জুস, সেমাই, আচার নুডুলস এবং মিষ্টিতে টেক্সটাইল ও লেদার রং, পানিতে ক্যাডমিয়াম, লেড, ইকোলাই, লবণে সাদা বালু, চায়ে করাতকলের গুঁড়া, গুঁড়া মসলায় ভূষি, কাঠ, বালু, ইটের গুঁড়া ও বিষাক্ত গুঁড়া রং ব্যবহার করছে। ফলে  কোনো খাবারই নিরাপদ নয়। এই বিশেষ দিকগুলো চরম উপেক্ষা করায় জনস্বাস্থ্য দিন দিন হুমকির মুখে পড়ছে।

বর্তমান বিশ্বে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সারের মতো অসংক্রামক রোগ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলা অসংক্রামক রোগের কারণে বিশ্বে প্রতিবছর ৩ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষ মৃত্যুবরণ করে। দক্ষিণ এশিয়ায় মানুষের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ অসংক্রামক রোগ। এ অঞ্চলে বছরে প্রায় ৭৯ লক্ষ মানুষ অসংক্রামক রোগে মারা যায় । মানুষের মাঝে অসংক্রামক রোগ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ খাদ্যভাস। খাদ্যে ভেজালসহ নানা কারণে বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। খাদ্যে  ভেজাল শুধু বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের জন্যও ক্ষতিকর। গবেষকরা এ অবস্থাকে নীরব গণহত্যা হিসেবে অবহিত করেছেন।

বাংলাদেশ সংবিধান ও জনস্বাস্থ্য:
দেশের সার্বিক সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির জন্য প্রয়োজন একটি সুস্থ্য জাতি। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় বাংলাদেশ সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়ে দিক নির্দেশনা রয়েছে। বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫ (ক) অনুসারে চিকিৎসাসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব এবং অনুচ্ছেদ ১৮ (১) জনগনের পুষ্টিস্তর উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্যের উন্নতি এবং স্বাস্থ্যহানিকর ভেষজের নিষিদ্ধের কথা বলা হয়েছে।

একজনক মানুষের পরিপূর্ণ শারিরীক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে পুষ্টিমান সম্পন্ন খাদ্যের প্রয়োজন। ভেজাল ও বিষাক্ত খাদ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।  জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ভেজাল ও বিষাক্ত খাদ্য বন্ধ করা সরকারের সংবিধানিক দায়িত্ব।

খাদ্য নিরাপত্তা ও মান রক্ষায় সরকারের একাধিক প্রতিষ্ঠান, কিন্তু রয়েছে সমন্বয়হীনতা:
খাদ্য নিরাপত্তা ও মান রক্ষায় বাংলাদেশের সরকারের একাধিক সংস্থা দায়িত্ব রয়েছে। সরকারের ৭টি মন্ত্রণালয় নিরাপদ ও মান সম্মত  খাদ্য নিশ্চিতের সাথে সরাসরি জড়িত। এছাড়া বিভিন্ন অধিদপ্তর ও স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরগুলোর উপরও বিভিন্ন দায়িত্ব সুপষ্টভাবে নির্দিষ্ট করা রয়েছে। খাদ্য উৎপাদন, মজুদ, বিপনন, বাজারজাতকরণ, মূল্য নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য মান রক্ষার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়, বানিজ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, মৎস ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর, কৃষি অধিদপ্তর, প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর, মৎস অধিদপ্তর,  বিএসটিআই, বিসিএসআইআর এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। এ সংস্থাগুলোর নীতিমালা, আইন ও কার্যপরিধিতে খাদ্য মান রক্ষা সংক্রান্ত সুপষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পুলিশকে বিভিন্ন আইনে অধীন আইন বাস্তবাস্তবায়নে সহযোগিতার বাধ্যকতা রয়েছে। খাদ্যের সাথে এ সকল মন্ত্রণালয়গুলোর সম্পৃক্ততা থাকলেও এ সংস্থাগুলোর একটির সাথে অন্যগুলোর সমন্বয় নেই। এ সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতার কারণে ভেজাল ও বিষাক্ত খাদ্য ও জীবন রক্ষাকারী ঔষধ লাগামহীনভাবে বিপনন ও বাজারজাতকরণ করা সম্ভব হচ্ছে। More details https://drive.google.com/file/d/0B3TFp2YeMJ5VU1FwZ09ET3hOQ2M/edit?usp=sharing

Tuesday, November 26, 2013

গণভোট ক্ষমতায়িত হোক জনগন

গণভোট ক্ষমতায়িত হোক জনগন

নিবার্চন প্রস্তুতি হবে জনগনের জন্য আনন্দের, জনগন নিজের পছন্দের যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেবেন, নির্বাচিত করবেন। কিন্তু নির্বাচনের আগে এ দেশের প্রতিটি মানুষ উৎকন্ঠা আর আতংকে দিন কাটে। দুঃখজনক হলেও সত্য গণতন্ত্র যেন বন্দী  ব্যক্তির ইচ্ছাতন্ত্রের কাছে। আর এ ইচ্ছার নিকট জিম্মি জনগন আর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ। প্রশ্ন হচ্ছে এ অবস্থাই চলতে থাকবে। না আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর ইচ্ছার উপর জনগনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠান করবো।

বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭ (১) অনুসারে এ রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার উৎস জনগন। প্রতি পাঁচ বছর পর পর জনগণ ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচিত করে আর সংখ্যাগরিষ্ট জনপ্রতিনিধি দলের সদস্যরা মিলে সরকার গঠন করে। সমস্যা শুরু হয় এখান থেকেই, যে দল ক্ষমতা যেে ত পারেন না তারা আন্দোলনের শুরু করে, আর ক্ষমতা থাকা দল আন্দোলন ঠেকানোর কৌশল নেয়। বিরোধী দলে থাকা রাজনৈতিক দলের সংসদে যাওয়ার আগ্রহ থাকে না, আর ক্ষমতাসীন দলের সদস্যরা থাকেন ব্যস্ত। কোরাম সংকটে অধিবেশন শুরু করা যাচ্ছে না এ খবর প্রায়শই আসে। যারা বক্তব্য রাখেন, জনগনের সমস্যা তুলে ধরা অপেক্ষো বন্দনা আর গঞ্জনা করে তার চেয়ে বেশি সময় ব্যয় করে। ক্ষমতাসীন দলের অনেক জনপ্রতিনিধিকে কাছে পাওয়া জনগণের জন্য বড়ই দুস্কার। আবার অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে জনবিরোধী কাজের।

সমস্যা হচ্ছে ভোট দেয়ার পর জনগণের কোন ক্ষমতা থাকে না জনপ্রতিনিধির উপর।  জনপ্রতিনিধির ইচ্ছাই জনতার ইচ্ছা ধরে নেয়া হয়। ক্ষমতাসীন দলের সদস্যরা যে কোন সিদ্ধান্তে গৃহীত হয় দেশের ভাগ্য। আর দুই তৃতীয়াংশ সদস্যরা সংবিধান পরিবর্তন করে যে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন।  এ সিদ্ধান্তগুলোর পক্ষে বা বিপক্ষে অনেক ক্ষেত্রেই জনগন অবস্থান নেয়, কিন্তু জনগনের ইচ্ছে জানার বা শোনার প্রক্রিয়া নেই। ক্ষমতাসীন দল আর বিরোধীদল উভয়ই বলে জনগণ তার পক্ষে। শুরু উভয়ের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচী আর পিষ্ট হয় জনগণ।

এ অবস্থার পরিবর্তন অবশ্যই দরকার, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলোর সংঘাতময় অবস্থান নেয়, তখন যেন জনগণ ক্ষমতা আর অধিকার প্রয়োগ করতে পারে। অবার যদি কোন জনপ্রতিনিধি তার দায়িত্ব পালন না করেন  বা জনবিরোধী কার্যক্রমে লিপ্ত হয় তখন জনগন যাতে তার সমর্থন প্রত্যাহার করতে পারে। এ ব্যবস্থা রাজনৈতিক দলগুলোর ইচ্ছাতন্ত্রের অবসান ঘটাবে এবং জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বশীল করে পারে।

বাংলাদেশ সংবিধানে ২০১১ সালে সংশোধনীর পূর্বে গণভোটের বিধান ছিল। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪২ (১ক) অনুসারে  মুলনীতি সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ ৮, রাষ্ট্রপ্রতি সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ ৪৮, মন্ত্রী সভা সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ ৫৬ সংক্রান্ত বিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি এ বিধানবলী সংশোধনে সম্মতিদান করবেন কি, করিবেন না এ বিষয়ে গণভোটে প্রেরণের বিধান ছিলে। ১৯৯১ সালে গণভোট সংক্রান্ত একটি আইনও প্রনয়ণ করা হয় । কিন্তু দুঃখজনক এই আইনের প্রয়োগ হয়নি। জনগণের ক্ষমতায়নের বিষয়ে এ বিধানটি খুবই শক্তিশালী । যদিও ১৪২ অনুচ্ছেদেও (১ঘ) (১গ) তে বলা হয়েছিল এ দফার কোন কিছুই মন্ত্রীসভা বা সংসদের উপর আস্থা বা অনাস্থা বলিয়ে গণ্য হবে না।

বাংলাদেশের রাজনীতিদলগুলোর সকল বিষয়ে বিপরীত অবস্থানের পরিস্থিতিতে গণভোট একটি কার্যকর উপর। রাষ্ট্র পরিচলানার বিরোধপূর্ণ বিষয়, সরকার গঠন বা সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গণভোটের মাধ্যমে জনগণই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে কি ব্যবস্থা চায়। জনগনের ক্ষমতায়নের জন্য গণভোটের পরিধি আরো বিস্তৃতি করা প্রয়োজন। জনগনের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালণ করছেন না বা বা জনস্বার্থ বিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা জনগনের থাকা উচিত। বর্তমান সময়ে জনপ্রতিনিধিদের এ ধরনের কর্মকান্ডের জন্য জবাবদিহীতা নিশ্চিতের ব্যবস্থা দুর্বল।

বিগত তত্ত¦াবধায়ক সরকারের আমলে নির্বাচন না ভোটের বিধান করা হয়েছিল। কিন্তু বিষয়টি পুর্ণাঙ্গ ছিল না। কিন্তু যদি এমন বিধান থাকত যে একটি নির্দিষ্ট শতাংশ না ভোট হলে পুনরায় ভোট গ্রহণ আয়োজন করতে হবে। তবে অনেক মানুষই হয়তো না ভোটের ক্ষমতা প্রয়োগ করতো।

জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে ‘না’ ভোটের বিধান, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোট এবং জাতীয় সংসদে প্রণীত কোন আইনের বিষয়ে জনমন প্রদান ও বিবেচনার বাধ্যতা আইন প্রনয়ণ করা প্রয়োজন। রাষ্ট্রীয় পরিচালনায় নীতি প্রণয়নে যা জনগণকে ক্ষমতায়িত্ব করবে। বর্তমানে কোন নীতি বা আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় হতে জনমন যাচাইয়ের বিধান করা হয়েছে, যা একটি ইতিবাচক দিক। তবে এ মতামত গ্রহণ করার বা বিবেচনার কোন বাধ্যকতা বিষয়ে কোন সুপষ্ট নির্দেশনা নেই।

গংসদে দলের বিপক্ষে অবস্থানের জন্য জনপ্রতিনিদিরে বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের বিধান থাকলেও, জবাবদিহীতা নিশ্চিতে বর্তমানে জনগনের কোন ক্ষমতাই নেই। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলো প্রাথমিকভাবে দলীয়ভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে। প্রতিটি রাজনৈতিক দলে নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা কমিটি গঠন করা যেতে পারে। যেখানে দলের নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের অভিযোগ প্রদান করা যাবে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সংসদে নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা কমিটি গঠন করা প্রয়োজন যেখানে জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে সাধারণ জনগন অভিযোগ করতে পারে। বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭৮ অনুসারে এ ধরনের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। তবে আইনের দ্বারা অভিযোগকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ সংবিধানের ৭৭ অনুচ্ছেদে  ন্যায়পালের বিধান রয়েছে। এ বিধান অনুসারে ন্যায়পাল কোন মন্ত্রণালয়, সরকারী কর্মচারী বা সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষের যে কোন কাজ সম্পর্কে তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। ১৯৮০ সালে ন্যায়পাল আইন প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু আইনটির বাস্তবায়ন আজ পর্যন্ত আলোরমূখ দেখেনি। নাগরিকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ন্যায়পালকে জনপ্রতিনিধিদের কার্যক্রম তদন্ত করার ক্ষমতা প্রদান করা জরুরি।

স্থানীয় সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা। কিন্তু স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আইনীভাবে যেমন দূর্বল করে রাখা হযেছে। আবার স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের রয়েছে ব্যপক স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ। বিদ্যমান আইন অনুসারে স্থানীয় সরকার প্রতিনিদিদের বিরুদ্ধে নির্বাহীকে পদক্ষেপ গ্রহণের অধিকার প্রদান করা হয়েছে। এ ক্ষমতা জনগনের কাছে কিছুটা প্রদান করা জরুরি। স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে বা তাদের কোন কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে জনগনকে অনাস্থা প্রস্তাব গ্রহনের ক্ষমতা প্রদান করা প্রয়োজন। জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে না ভোটা বা অনাস্থা উত্থাপনের ক্ষমতা, তাদের স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ন্ত্রণ এবং দায়িত্বশীল আচরণে উদ্ধ্দ্ধু করবে।

রাজনীতি বিশ্বের অন্যতম মহৎ জনসেবা। তবে যদি তা নিঃস্বার্থ ও মানুষের কল্যাণের জন্য হয়। আমরা যদি মনে করি শুধু আমাদের রাজনীতির অঙ্গনে নীতির অভাব রয়েছে, তবে তা ভুল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশই রাজনীতিবিদ বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে।  তবে রাজনীতির অঙ্গনকে দুষণমুক্ত করতে জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা ও স্বেচ্ছাচারিতার অবসানে আইন ও নীতি প্রয়োজন। জনপ্রতিনিধি হলেই তাদের বিরুদ্ধে কোন আইনী পদক্ষেপ নেয়া যাবে এ ধরনের মানসিকতার অবসান জরুরি। জনপ্রতিনিধি নাগরিক হিসেবে তার অতিরিক্ত দায়িত্ব। দায়িত্ব পালণ শেষে তিনি আবার একজন নাগরিক।

গণভোট, জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা, সমর্থন প্রত্যাহারের বিধান আজ এ প্রস্তাবনাগুলোকে হয়তো কঠিন মনে হবে। কিন্তু এ দিন এ বিষয়গুলো রাজনীতিবিদরা নিয়ে আসবে। আজ যা ভাবব, কেউ এ কথা বলবে, যখন কিছু লোক এ কথা বলবে, অনেক লোক ভাববে, আর  কিছু লোক দাবি আদায়ে সংগঠিত হবে। তবেই রাজনীতিবিদরা তাদের অবস্থান পরিবর্তন করবে।

Monday, April 15, 2013

সুস্থ্য বাঁচাতে চাই হাঁটা, সংকুচিত হচ্চে পথ !


সুস্থ্য বাঁচাতে চাই হাঁটা, সংকুচিত হচ্চে পথ !

সকাল বেলা ঢাকা শহরের কিছু রাসৱায় দাড়ালে দেখা যায়, হেঁটে চলা মানুষের জনস্রোত। এ সকল রাসৱায় দাড়ালে হাটতে হবে না এমনিতেই মানুষের স্রোতে এক স'ান হতে অন্য স'ানে চলে যেতে হয়। এ অবস'া অধিকাংশ স্বল্প আয়ের মানুষের যাতায়াতের। অপর দিকে সকাল-বিকাল শহরের বিভিন্ন শ্রেণীর পেশার মানুষ হৃদরোগ, অতিরিক্ত মোটা হওয়া, স্ট্রোকসহ নানা সমস্যা হতে মুক্তি পেতে মাঠ পার্কগুলোতে হেঁটে থাকেন। তার বাইরে কিছু মানুষ অনেক যাদের হাঁটা প্রয়োজন হলেও হাটতে পারেন না প্রতিবন্ধকতার কারণে। এ সকল শ্রেণীর মধ্যে প্রতিবন্ধী, বৃদ্ধি, মহিলা শিশু অন্যতম। এ অবস'া থেকেই অনুমান করা যায় হাঁটার অবস'া ভাল নয়। দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রাইভেট গাড়ী, ফলে বৃদ্ধি পাচ্ছে যানজট, পরিবেশ দুষণ, জ্বালানি সংকটসহ নানা সমস্যাগুলো। অধিকাংশ মানুষ হেঁটে চলাচল করলেও অগ্রাধিকার পাচ্ছে না হাঁটার ব্যবস'া।

এক সময় ঢাকা শহরের প্রতিটি রাসৱায় হেটে পারাপারের জন্য জ্রেবা ক্রসিং ছিল। কিন' পথচারী অগ্রাধিকার দেওয়ার নামে মাত্র কযেক বছরের এ সকল জেব্রা ক্রসিংগুলো তুলে দিয়ে স'াপন করা হয়েছে ফুটওভার ব্রিজ। তিনতলা এই ফুটওভার ব্রিজগুলো কিভাবে পথচারী সহায়ক কার্যক্রম হয় তা বোধগম্য নয়। কারণ এ সকল ব্রিজ দিয়ে বৃদ্ধি, প্রতিবন্ধী, মহিলা, শিশু এবং মালামাল বহনকারী ব্যক্তিদের চলাচল কোনভাবেই সম্ভব নয়। তাছাড়া একটি সুস'্য সবল মানুষ যদি কিছু দূর হাটেন তার শরীর ও মনের পক্ষেও এ পর্বত সমান ফুটওভার ব্রিজ অতিক্রম করা সম্ভব নয়।

এ শহরে যেখানে অধিকাংশ মানুষ হেটে চলাচল করে তাদের জন্য জ্রেব্রা ক্রসিং বৃদ্ধি না করে কেনই বা পর্বত সমান ফুটওভার ব্রিজ তৈরি করা হচ্ছে না সত্যিই বিস্ময়ের বিষয়। সবচেয়ে অবাক বিষয় হচ্ছে বিগত কয়েক বছরের এ ধরনের অনেকগুলো ব্রিজ তৈরি করার পর ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে মানুষ ব্যবহার না করার জন্য। তথাপিও নতুন নতুন তৈরি হচ্ছে ফুটওভার ব্রিজ। কিছু স'ানে আইনপ্রয়োগকারী সংস'ার লোকদের দিয়ে বাধ্য করানো হচ্ছে ব্রিজে উঠতে। ফুটওভার ব্রিজের স'ানে ব্যারিকেট তৈরি করা হচ্ছে যাতে মানুষ যত্রতত্র দিয়ে পারাপার না হতে পারে। যদি প্রশ্ন করার হয় একজন বৃদ্ধি, প্রতিবন্ধী, মহিলা, শিশু এবং মালামাল বহনকারী ব্যক্তি কিভাবে এ পর্বত অতিক্রম করবে। তার উত্তর কেনই দিতে পারবে না। বিগত দিনে ফুটওভার ব্রিজগুলো ভাঙ্গা এবং বল প্রয়োগ করেও ব্রিজ ব্যবহারে জনগনকে উৎসাহীত না করার ফলাফল হচ্ছে। এ প্রক্রিয়া জনগনের জন্য আরাম দায়াক ও সুবিধাজনক নয়। অর্থাৎ পরিকল্পনাবিদগন মানুষের সুবিধা ও মতামত বিবেচনা না করে এ সকল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। যা হাঁটার মানুষের প্রতি উপহাস বা অবহেলা হিসেবে প্রতীয়মান হয়। রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থে সরকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অধিকাংশ মানুষের সুবিধার প্রতি অবহেলা অসংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক।

এবার আসা যাক হেটে চলাচল কেন আমাদের জন্য জরুরি। কেনই বা এ বিষয় এত বক্তব্য ও তর্কের অবতারণা। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে যাতায়াত একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সুস'্য-স্বাভাবিকভাবে যাতায়াত করার জন্য সুষ্ঠু পরিবহন ব্যবস'া থাকা প্রয়োজন। ক্ষেত্রবিশেষে পাবলিক পরিবহন, অটোরিকশা, রিকশা, সাইকেল, হাঁটাকে প্রাধান্য দিতে হবে। তুলনামূলক বেশী দূরত্বের যাতায়াতের ক্ষেত্রে যেমন পাবলিক পরিবহন ব্যবহার করতে হবে, তেমনি স্বল্প দুরত্বের যাতায়াতের ক্ষেত্রে হাঁটাকে প্রাধান্য দিতে হবে। শুধুমাত্র স্বল্প দুরত্বের যাতায়াতের ক্ষেত্রেই নয় হাঁটার সাথে আমাদের শারীরীর সুস'্যতার সম্পর্ক রয়েছে।

আমাদের শারীরীক সুস'তা নিশ্চিত করার জন্য শুধুমাত্র পুষ্টিকর খাবারই নয় তার সাথে দরকার আমাদের নিয়মিত হাঁটাচলা বা ব্যায়াম করা। আমাদের শারীরীক সুস'্যতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন নিয়মিত ব্যায়াম করা। কিন' আমাদের কর্মব্যসৱ জীবনে ব্যসৱতার কারনে নিয়মিত ব্যয়াম করা সম্ভব হয় না। তাছাড়া ব্যয়ামের জন্য যে সমসৱ জিম রয়েছে তাও ব্যায় সাপেক্ষ। অথচ আমরা যদি একটু সচেতন হয়ে স্বল্প দুরত্বের যাতায়াতের ক্ষেত্রে হেঁটে চলাচল করি তাহলে ব্যয়ামের জন্য আলাদা করে সময় এবং অর্থ ব্যয় করার প্রয়োজন হবে না। তাছাড়া রোগ প্রতিরোধের জন্য নিয়মিত হাঁটা কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। বিশ্বস্বাস'্য সংস'ার মতে সুস'্য থাকার জন্য প্রতিদিন কমপক্ষ্যে ৩০ মি হাঁটা ও ওজন বৃদ্ধি হ্রাসের জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে ১ ঘন্টা হাঁটা উচিত।

নিয়মিত হাঁটার ফলে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, মোটজনিত সমস্যাসহ নানা জটিল রোগসহ অনেক অসংক্রমক রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। ২০০৫ সালের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত তিনটা গবেষনায় দেখা গেছে নিয়মিত ৩০ মিনিট হাঁটলে হৃদরোগে আক্রানৱ হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি ৩৯% থেকে ৪৮% ভাগ পর্যনৱ কমায়। এবং ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ৮ তারিখে "ঔড়ঁৎহধষ ড়ভ ঃযব অসবৎরপধহ গবফরপধষ অংংড়পরধঃরড়হ," একটা গবেষনা প্রকাশ করে যা ৯০৬ জন মহিলাকে নিয়ে করা হয়। গবেষনায় দেখা যায় নিয়মিত হাঁটাচলা না করা বা কায়িক শ্রমের অভাবে ৭৬% মহিলা ওজন জনিত সমস্যায় ভুগছে এবং ৪১% মহিলা অতিরিক্ত ওজন জনিত সমস্যায় ভুগছে, যা ভবিষতে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাছাড়া এমন অনেক অসংক্রমিক অনেক রোগ আছে যা হেঁটে চলাচলের মাধ্যমে প্রতিরোধ সম্ভব। তাছাড়া নিয়মিত হাঁটার ফলে শারীরীক সুস'্যতার সাথে সাথে মানসিক স্বাস'্য ঠিক রাখা সম্ভব।

সুস'্যভাবে বেঁচে থাকাই নয়, হাঁটার মাঝে রয়েছে এক ধরনের আনন্দ। কারণ হাঁটতে গিয়েই পরিচিতজন এবং নতুন মানুষের সাথে খুব সহজে সু-সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব। এর মাধ্যমে সামাজিক সম্পর্ক উন্নয়ন সম্ভব। নিয়মিত হেঁটে চলাচল করলে আশপাশের সকলের সাথে সখ্যতা সৃষ্টি হয়, যাতে সামাজিক নিরাপত্তা ও সম্পৃতি বৃদ্ধি পায়। ফলে আনন্দের সাথে অবসর সময় কাটানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়। এতে শারীরীক সুস'্যতার সাথে সাথে মানসিক স্বাস'্য ভাল থাকে। তাছাড়া ধনি গরিব নির্বিশেষে হেঁটে চলাচল করলে সামাজে সমতা সৃষ্টি হয়।

শুধুমাত্র বড়দের জন্যই নয় শিশুদেরও সুস'্যভাবে বেড়ে ওঠার জন্য হাঁটা গুরুত্বপূর্ণ। এখনকার শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যত। তাদের ওপর নির্ভর করে আগামী দিনের দেশের ভবিষ্যত। অতএব তাদের সুস'্যভাবে বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অথচ বর্তমানে আমাদের শিশুরা বড় হচ্ছে ইট-কাঠের তৈরী আবদ্ধ ঘরে। তাদের সময় কাটানো মাধ্যম হচ্ছে টিভি, কম্পিউটার, ভিডিও গেমস ইত্যাদি। উপযুক্ত খেলাধুলা ও হাঁটার পরিবেশ না থাকার কারনে আশে পাশে কারো সাথে মেলামেশার সুযোগ পাচ্ছে না। যা তাদের সুষ্ঠু বিকাশের ক্ষেত্রে অনৱরায়। এমনকি স্কুলে বা অন্য কোথাও যাতায়াতের জন্য বেশীরভাগ ক্ষেত্রে ব্যবহার করছে প্রাইভেট গাড়ী। স্কুলগুলোতেও পর্যাপ্ত খেলা ধুলার পরিবেশ নাই। ফলে শিশুদের প্রয়োজনীয় শারীরীক ব্যায়াম হচ্ছে না। অথচ শিশুদের যদি হেঁটে স্কুলে যাতায়াতের ব্যবস'া করি একদিকে যেমন শারীরীক ব্যয়াম হবে তেমনি আশে পাশে মানুষের সাথে মেলামেশার সুযোগ সৃষ্টি হবে। যা তাদের সুষ্ঠু ভাবে বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয়।

হাঁটার অনেক সুফল থাকলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকার কারনে মানুষ অনেক ক্ষেত্রে হাঁটতে নিরুৎসাহীত হচেছ। ঢাকায় যেখানে যাতায়াতের ৮৪% যাতায়াত হচ্ছে হেঁটে ও জ্বালানীমুক্ত যান দ্বারা সেখানে দেশের পরিবহন পরিকল্পনা করা হচ্ছে যান্ত্রিক যানবাহনকে গুরুত্ব প্রদান করে। যান্ত্রিক যানবাহনকে সার্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে জনসাধারনের উপর বাড়তি ভাড়া বাবদ অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে শিক্ষা, স্বাস'্য, প্রভৃতি সেবার উপর। অথচ আমাদের শারীরীক সুস'তা, পরিবেশ বান্ধব, আর্থিক সাশ্রয়ী হওয়া স্বত্বেও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে হাঁটাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে না। তৈরী করা হচ্ছে না হাঁটার উপযুগী পরিবেশ এবং ফুটপাত। তাছাড়া যেসমসৱ ফুটপাত রয়েছে তাও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভাঙ্গা, অসমান, পথচারী বান্ধব নয়, এবং ফুটপাতগুলোতে গাড়ী পার্কিং করে রাখা হয়। ফুটপাত ও রাসৱায় গাড়ী পার্কিং করায় অনেক ক্ষেত্রে ঝুকিপূর্ণভাবে মানুষ ফুটপাত ছেড়ে রাসৱার মধ্য দিয়ে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছে। ফুটপাতের পাশে ডাস্টবিন, ফেলে রাখা কনস্ট্রাকশনের জিনিসপত্র-ময়লা-আবর্জনা পরিবেশকে অস্বাস'্যকর করছে। এসমসৱ কারনে পথচারীরা নির্বিঘ্নে হেঁটে চলাচলের ক্ষেত্রে বাধাগ্রস' হচ্ছে এবং হেঁটে চলাচলে নিরুৎসাহীত হচ্ছে।

দেশের বাইরে যে সমসৱ দেশ সুষ্ঠু পরিবহন ব্যবস'া গড়ে তুলেছে সে সব দেশে হাঁটাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং হেঁটে চলাচলের জন্য সেখানে প্রশসৱ ফুটপাত রয়েছে। শুধু তাই নয় প্রতিবন্ধি, শিশু ও বয়স্কদের হেঁটে চলাচলের আলাদা নীতিমালা আছে। তাছাড়া দেশের বাইরে যাতায়াতের ক্ষেত্রে পথচারীদের অগ্রাধীকার দেওয়া হয়। পথচারী হেঁটে যাচ্ছে দেখলে গাড়ির গতি থামিয়ে তাকে আগে যেতে দেয়া হয়। মনোমুগ্ধকর পরিবেশ পথচারীদের আকৃষ্ট করে তাই পথচারীদের চলাচলের সুবিধার্তে প্রচুর পরিমানে গাছ লাগানো হয়। নদীর পাশদিয়ে, সেতুতে রেল লাইনের পাশাপাশি হাঁটার জন্য আলাদা লেন বরাদ্দ আছে। হাঁটার পরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের বেশ কিছু শহরে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে যান্ত্রিক যানবাহন নিষিদ্ধ থাকে।

অবকাঠামোগত পরিবেশ মানুষের মনের উপর প্রভাব ফেলে তাই হাঁটার জন্য সুন্দর, মনোমুগ্ধকর আর প্রাকৃতিক পরিবেশ তৈরী করতে হবে। আর এর জন্য রাসৱার দুইপাশে হাঁটার জন্য প্রশসৱ ফুটপাত তৈরী করতে হবে। যে সমসৱ রাসৱায় ফুটপাত রয়েছে তার বেশীরভাগই ভাঙ্গা এবং অসমান, পথচারী বান্ধব নয়। তাই নির্বিঘ্নে হাঁটার সুবিধার্থে ফুটপাত পথচারী বান্ধব করতে হবে। তাছাড়া বেশীর ভাগ রাসৱায় ফুটপাতগুলোতে গাড়ী পার্কিং করে রাখা হয়। ফলে নির্বিঘ্নে হেঁটে চলাচলের ক্ষেত্রে পথচারীরা বাধাগ্রস' হয়। তাই ফুটপাতে গাড়ী পার্কিং নিষিদ্ধ করতে হবে। ফুটপাতে ছায়ার জন্য পর্যাাপ্ত গাছ লাগানো এবং রাতে হেঁটে চলাচলের সুবিধার জন্য পর্যাপ্ত আলোর ব্যাবস'া থাকতে হবে। ফুটপাতের পাশে ডাস্টবিন সরিয়ে ফুটপাত ময়লা আবর্জনামুক্ত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করতে হবে।
‪#‎ I‬ am pedestrian, safe crossing is my rights.#pedestrian, #Walking 

Sunday, July 1, 2012

হারালেন পা, হলো ফুটওভার ব্রিজ


হারালেন পা, হলো ফুটওভার ব্রিজ

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের জেব্রা ক্রসিংটিতে মোটা গ্রিল দিয়ে বেরিকেট দিয়ে দেয়া হয়েছে। জ্রেবা ক্রসিং হতে একটু দুরে তৈরি করা হয়েছে পর্বত সমান ফুটওভার ব্রিজ। গত ২৮ ডিসেম্বর সাংবাদিক নিখিল ভদ্র বাসের চাপায় আহত হওয়ার পরবর্তীতে দ্রুততার সাথে ফুটওভার ব্রিজ তৈরি এবং জেব্রা ক্রসিংটি বন্ধ করা হলো। আর এ ঘটনা পথচারীদের অবস্থার প্রতি নগর যাতায়াত ব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো উদাসীনতা, অবজ্ঞা এবং অজ্ঞতার একটি প্রকৃত নির্দশন। বাসের চাপায় আহত পা হারানো সংবাদিক নিখিল ভদ্রের পক্ষে কোনভাবেই এই পর্বত সমান ব্রিজ অতিক্রম করার সম্ভব নয়। পথচারীদের নিরাপত্তা, শারিরীক পরিশ্রম এবং অপরাগরতার বিষয়টি ঢাকা নগরের যাতায়াত পরিকল্পনার সাথে সংশ্লিষ্টরা এ যাবত উপলদ্ধি করেনি। উন্নত দেশের আদলে যাতায়াত ব্যবস্থা গড়তে ব্যস্ত যাতায়াত পরিকল্পনার সাথে সংশ্লিষ্টরা কিভাবে পথচারীদের বিষয়টি উপেক্ষা করে আসছেন, তা সত্যিই বিস্ময়ের।

নিখিল ভদ্র একটি উদাহরণ মাত্র। বৃদ্ধ, অসুস্থ্য রোগী, প্রতিবন্ধী, মহিলা, শিশু, ক্লান্ত পথিক, মালামালবহনকারী বা অর্থাইটিসে আক্রান্ত মানুষের পক্ষে এই পর্বত সমান ফুটওভার ব্রিজগুলো অতিক্রম করা সম্ভব হয় না বিধায়, অধিকাংশ ব্যক্তিই জীবনের ঝুকি নিয়ে নিচ দিয়ে পথ পারাপার হয়। নগর যাতায়াত ব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো উদাসীনতার কারণে ঢাকা শহরের প্রতিদিন একজন করে পথচারী দুঘর্টনায় আহত বা নিহত হয়। ঢাকা শহরের সংঘটিত সড়ক দূঘর্টনার প্রায় ৮৬% শিকার পথচারী।

প্রতিনিয়ত পথচারীরা দূঘর্টনায় আহত বা নিহত হলেও, পথচারীদের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বা সিটি কর্পোরেশনের কোন ধরনের পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। ঢাকায় যানজট নামক প্রকল্প বান্ধব কর্মকান্ডের জন্য যে পরিমান জনবল, অর্থ, শ্রম, মেধা ব্যয় করা হচ্ছে তার কিচিৎ পরিমাণও ব্যয় করা হয়নি পথচারীদের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য। বরং পথচারী নিরাপত্তার নামে মাঝে মাঝেই নেয়া হয় নির্যাতন নামক বিভিন্ন কর্মকান্ড। যার একটি পর্বত সমান ফুটওভার ব্রিজ তৈরি এবং এ ব্রিজ ব্যবহারে বাধ্য করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়োজিত করা। আবার কখনো ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করার জন্য মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে শাস্তিও প্রদান করা হয়। একটি বিষয় তাদের উপলব্ধি আসে না একজন পরিশ্রান্ত মানুষের পক্ষে এই উচু পর্বত অতিক্রম করা সম্ভব নয়। অনেক ক্ষেত্রে জীবনের জন্য হুমকি। যে কারণে মানুষ লিফট বা গাড়ি ব্যবহার করে। সেই একই কারণে মানুষ সহজে, কম পরিশ্রমে যাতায়াতের জন্য ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করে না।


পথচারীদের প্রতি নির্যাতনমূলক এই ধরনের কর্মকান্ডের প্রেক্ষিতে পথচারীদের অধিকার সংক্রান্ত আইনগুলো বিবেচনা করা উচিত।  পথচারীদের জন্য সিটি কর্পোরেশন আইন, মোটরযান আইন ১৯৮৩ এবং মেট্রোপলিটন আইনে বিভিন্ন বিধান রয়েছে। কিন্তু এ বিধানগুলো গাড়ী চালকরা মান্য করে না, অনেকেই এই আইন সম্পর্কে জানে না। ট্রাফিক বিভাগের লোকবলের সীমাবদ্ধতার কারণে পথচারীদের নিরাপত্তায় এই আইনের প্রয়োগ খুবই সীমিত। নগরে পথচারীদের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য অবকাঠামো গড়ে তোলার দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের। কর্পোরেশনের আইনের তফসিল ১৯.১ এ বলা রয়েছে, পথচারী যাহাতে পথ চলিতে বিপদগ্রস্ত না হন এবং তাহার নিরাপদ ও অনায়াসে পথে চলাফেরা করিতে পারে সেই জন্য কর্পোরেশন প্রবিধান দ্বারা যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।  মোটর যান আইনের ধারা ১৬৪ তে বলা হয়েছে পথচারী পারাপারের নির্ধারিত স্থানে কিংবা ঠিক সন্নিকট দিয়ে কিংবা যেখানে ওভারটেকিং নিষিদ্ধ এসব স্থানে ওভারটেক করলে ড্রাইভিং লাইসেন্স হতে বঞ্চিতকরণ করা যাবে।  কিন্তু এ আইনের আজ পর্যন্ত প্রয়োগ করা হয়নি। ঢাকা বিদ্যমান পরিবহননীতি এসটিপিতে পথচারী অগ্রাধিকার নীতি বিষয়ে বলা হলেও বর্তমান অবস্থায় অগ্রাধিকার অবস্থা সহজে অনুমান করা যায়।

মহামান্য হাইকোর্ট গত ৭ মার্চ ২০১২ তারিখে পথচারীদের নিরাপত্তায় ফুটপাতে মোটরসাইকেল চলানো বন্ধসহ কতিপয় নির্দেশনা প্রদান করে। আদালতের নির্দেশনার পরবর্তীতে ঢাকা বিভিন্ন স্থানে জেব্রা ক্রসিং অংকন করা হয়েছে। তাড়াহুড়ো করে অংকিত এ সকল জেব্রা ক্রসিংগুলো রয়েছে নানা সমস্যা। জেব্রা ক্রসিং থাকলেও অনেক স্থানেই পারাপারের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, কোন জেব্রা ক্রসিং এর শুরু অথবা শেষে গর্ত বা ড্রেন রয়েছে, ক্রসিংগুলো উচু নিচু অর্থাৎ সমান্তরাল নয়, জেব্রা ক্রসিং এ অসম্পুর্ণ  রেইজ ওয়াকওয়ে (উচু হাঁটাপথ), যা শুধুমাত্র শাহবাগ রয়েছে এবং অনেক স্থানে জেব্রা ক্রসিং এর পূর্বে গাড়ী থামানোর জন্য দাগ নেই।

এছাড়া অধিকাংশ স্থানেই জেব্রা ক্রসিং অনেক দুরুত্বে, যা সর্বোচ্চ ২০০ মিটার এর মধ্যে থাকা প্রয়োজন, জনবহুল স্থান এ স্বচ্ছন্দে পারাপার হওয়ার জন্য জেব্রা ক্রসিং নেই এবং অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মার্কেট ও ইন্টার সেকশনে জেব্রা ক্রসিং নেই। জেব্রা ক্রসিংগুলিতে সিগন্যাল বাতি এবং সাইন নেই, অনেক স্থানে সাইন আছে, কিন্তু জেব্রা ক্রসিং মুজে গেছে, অনেক স্থানে সিগন্যাল বাতি আছে, কিন্তু কাজ করে না। পথচারীদের পারাপারের জন্য কোন ধরনের সিগ্যন্যাল নেই।

ঢাকা শহরের পথচারীদের নিরাপদ পারাপারে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা গাড়ী। গাড়ীগুলো পথচারীদের পথ চলার অধিকারকে  প্রতিনিয়ত লঙ্ঘিত করছে। গাড়ী চালকরা জেব্রা ক্রসিং দখল করে দাড়িয়ে থাকে, কোন চালকরাই জ্রেবা ক্রসিং-র পূর্বে দাগ মানছে না, প্রতিনিয়ত পথচারীদের অধিকার লঙ্গন করলেও গাড়ী চালকদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। বাস, মিনিবাসগুলো বেপরোয়া চালনার প্রতিয়িত আতঙ্কিত করে পথচারীদের। এছাড়া ধানমন্ডি, গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ধ্যা নামতেই চলে উচ্চশব্দের ব্যবহারের পাশাপাশি গাড়ীর বেপরোয়া গতি প্রতিযোগিতা। আর এ প্রতিযোগিতার কারণে আতংকিত, কখনো কখনো দূঘর্টনার শিকার হয় পথচারী।

ঢাকা শহরের ফুটপাত দখল করে রাখার জন্য অভিযোগ বরাবর হকারদের দিকেই থাকে। অথচ ঢাকা শহরের কয়েকটি স্থান ব্যতীত অধিকাংশ স্থানের ফুটপাত দখল করে রাখে প্রাইভেট গাড়ী, হুডা, দোকানো মালপত্র বা সাইন বোর্ড। এছাড়া কোথাও কোথাও ফুটপাতগুলো ভেঙ্গে দোকান ও বাড়ীতে গাড়ী প্রবেশের জন্য নিজেদের মতো রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। যা পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।

ফুটপাতে হকারদের উচ্ছেদের ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও। ফুটপাত ভেঙ্গে গাড়ী প্রবেশের ব্যবস্থা করার প্রেক্ষিতে মার্কেট বা বাড়ীর মালিকদের উপর কোন ধরনের আইন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। ফুটপাত ভাঙ্গার জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের পাশাপাশি হকারদের নিয়মতান্ত্রিকভাবে ফুটপাতের পাশে বসার ব্যবস্থা করা জরুরি। ফুটপাতগুলোর কোনটাই বৃদ্ধ, অসুস্থ্য রোগী, প্রতিবন্ধী, হুইল চেয়ার ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী নয়। অধিকাংশ ফুটপাতগুলো খাড়াভাবে নেমে গেছে। এছাড়া ভাঙ্গা ফুটপাতসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দখলের সমস্যাতো বরাবরই রয়েছে।

গাড়ীর কারণে পথচারীরা আহত বা নিহত হলেও পথচারীদের নিরাপত্তার জন্য জেব্রা ক্রসিং, সাইনের মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, সড়ক পারাপারের জন্য মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে শাস্তি প্রদানের ঘটনাও ঘটেছে। ক্লান্ত পথিক, বৃদ্ধ, অসুস্থ্য রোগী, মহিলা, শিশু, প্রতিবন্ধীদের পক্ষে ফুটওভার ব্রিজ অতিক্রম করা সম্ভব না হলেও, জোরপূর্বক ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারের বাধ্য করার প্রচেষ্টা করা হয়েছে। ব্যক্তিগত গাড়ীর সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারে বাধ্য করা বা বাধ্য করা বাংলাদেশ সংবিধানের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার অনুচ্ছেদ-১১, কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি অনুচ্ছেদ ১৪, সুযোগের সমতা অনুচ্ছেদ-১৯ (১) (২), আইনের দৃষ্টিতে সমতা অনুচ্ছেদ-২৭, জবরদস্তি শ্রম নিষিদ্ধকরণ অনুচ্ছেদ ৩৪ (১), চলাফেরার স্বাধীনতা অনুচ্ছেদ-৩৬ এর পরিপন্থী।

এই শহরে ধনী-গরীব সকলকেই কিছুটা সময় হাটতে হয়। ধনীরা হয়তো পার্কে হাটেন স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে, কিন্তু অধিকাংশ মানুষকে হাটতে হয় নিত্য দিনের প্রয়োজনে। এ পর্যন্ত যতজন যোগাযোগ মন্ত্রী এসেছেন তারা প্রকৃত পক্ষে সবাই প্রাইভ্টে গাড়ী কিভাবে যাবে তাই নিয়ে পরিকল্পনায় ব্যস্ত,  যার ব্যবহারকারী এই নগরে ৫% মানুষ। বাকী ৯৫ ভাগ মানুষ চলাচল করে হেটে, বাসে, সাইকেলে রিকশায়। জেব্রা ক্রসিং, প্রশস্ত ছায়াময় ফুটপাত, নিরাপদ সাইকেলে যাতায়াত, রিকশার জন্য পৃথক লেন, প্রতি রুটে বাস এবং পরিবহন ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এই ৯৫ ভাগ মানুষের জীবনের সাথে জড়িত। যা বিদ্যমান আইনের বাস্তবায়ন, সম্পদের ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব। পথচারীদের নিরাপত্তার জন্য শুধুমাত্র আইনী প্রয়োগ ও বিদ্যমান সম্পদের ব্যবস্থাপনার যথেষ্ট। কিন্তু সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর এ বিষয়ে উদাসীনতা সুপষ্ট বিদ্যমান। যানজটের নামে লক্ষ কোটি টাকার প্রকল্প বান্ধব আলোচনা, পরিকল্পনা আর কার্যক্রম নগর পরিকল্পনার প্রাণ।

প্রতিদিন ৯৫ শতাংশ মানুষ ভাড়া সন্ত্রাস, নিরাপদ যাতায়াতের সমস্যায় ভুগছে আর আমাদের যোগাযোগ সংশ্লিস্ট বিভাগুলো শুধু ব্যস্ত যানজট সংক্রান্ত প্রকল্প বান্ধব কার্যক্রম নিয়ে। যানজট ছাড়াও যে অন্য বিষয় আছে তা তাদের ভাবতে হবে। যে সমস্যাগুলোর সমাধানের জন্য অনেক অর্থের প্রয়োজন নেই। পথচারীরা যানজট সৃষ্টি করে না, পরিবেশ দুষণ করে না। পথচারীদের জন্য উন্নত পরিবেশ মানে অসংক্রান্ত রোগ নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকারের উদ্যোগও বটে। শুধুমাত্র আইনের প্রয়োগ, ফুটপাত ও জেব্রা ক্রসিং সংস্কার, গাড়ীচালকদের নিয়ন্ত্রণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অনেক স্বল্প অর্থে এ নগরের অধিকাংশ পথচারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা সম্ভব। পথচারীদের পরিশ্রম, অগ্রাধিকার নীতি, মানসিক এবং নিরাপত্তার বিষয়গুলো বিবেচনা করে নগর যাতায়াত পরিকল্পনা গ্রহণ হবে এই আগামীর প্রত্যাশা।
‪#‎ I‬ am pedestrian, safe crossing is my rights.#pedestrian, #Walking